শিশুদের শেখার ও নিজেদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ১০০টি স্বাস্থ্য বার্তা হল ৮-১৪ বছর বয়সী বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে তৈরী করা সহজ, নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা বার্তা। তাই এতে ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরকিশোরী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা মনে করি যে এটা বিশেষভাবে সহায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ যে ১০-১৪ বছর বয়সী এই সমস্ত ছেলে-মেয়েদের তথ্যগুলো দেওয়া জরুরী কারন এই বয়সের ছেলে-মেয়েরা সাধারণত তাদের পরিবারের ছোটোদের যত্ন নিয়ে থাকে। এছাড়া, তারা যেভাবে নিজেদের পরিবারকে সহায়তা করছে, সেটাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রশংসা করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে ১০টি প্রধান বিষয়ের প্রত্যেকটির জন্য ১০টি করে বার্তা নিয়ে এই ১০০টি বার্তা তৈরি করা হয়েছে। বিষয়গুলি হল: ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, পুষ্টি, ঠান্ডা কাশি এবং অসুস্থতা, অন্ত্রের কৃমি, পানি ও পরিচ্ছন্নতা, টিকাদান, এইচআইভি ও এইডস এবং দুর্ঘটনা, আঘাত এবং প্রাথমিক শৈশব বিকাশ। এই সহজ স্বাস্থ্য বার্তাগুলি বাবা-মা এবং স্বাস্থ্য-বিষয়ক শিক্ষকেরা বাড়িতে, স্কুলে, ক্লাবে এবং চিকিৎসালয়ে শিশুদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবেন।

এখানে বিষয় ৭-এর উপর ১০টি বার্তা রয়েছে: পুষ্টি

  1. যে খাদ্য আমাদের চলাচলের শক্তি দেয়, আমাদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করে এবং যে খাদ্য আমাদের চেহারার চাকচিক্য বজায় রাখে সেই খাদ্য হল ভাল খাদ্য এবং এটি আমাদের শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে।
  2. যদি আমরা খুব অল্প খাদ্য খাই অথবা খাদ্যগুণ নেই এমন খাবার খাই তাহলে আমরা অপুষ্টিতে ভুগবো। খাবার সময় সবাই মিলে একসাথে বসে সঠিক পরিমানে ভাল খাবার খেয়ে অপুষ্টি প্রতিরোধ করুন।
  3. বৃদ্ধি ঠিকমত হচ্ছে কি না জানার জন্য দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি মাসে ৫-বছরের কম শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ওজন করাতে হবে।
  4. যদি শিশুরা রোগা হয়ে যায়, যদি তাদের মুখমন্ডল বা পায়ের পাতা ফুলে যায় বা তারা যদি খুব শান্ত হয়ে যায় তাহলে তাদের স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে নিয়ে যেতে হবে।
  5. শিশুরা অসুস্থ হলে তাদের খাবার খাওয়ার ইচ্ছে চলে যায়। তাদের পান করার জন্য প্রচুর তরল পদার্থ দিন, সুপ দিন এবং সেরে ওঠার সময় অন্য সময়ে সাধারণত যে পরিমান খাবার দেওয়া হয় তার থেকে বেশি পরিমানে খাবার খেতে দিন।
  6. জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স অবধি একটি শিশুর খাদ্য ও পানীয় হিসেবে কেবলমাত্র স্তন্যদুগ্ধের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এটি শরীরে শক্তি প্রদান করে, শিশুকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে এবং তার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
  7. ৬ মাস বয়সের পর স্তন্যদুগ্ধের সাথে শিশুকে দিনে ৩ বা ৪ বার নরম করা বা গুঁড়িয়ে নেওয়া হয়েছে এমন স্বাভাবিক খাবার এবং প্রতি বেলার খাবারের মাঝে কিছু হাল্কা খাদ্যও দেওয়া প্রয়োজন।
  8. সব থেকে উৎকৃষ্ট উপায়ে স্বাস্থ্যসম্মত, সুষম খাবার পাওয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে আমাদের বিভিন্ন অকৃত্রিম প্রাকৃতিক রঙের খাদ্য খেতে হবে।
  9. লাল, হলুদ ও সবুজ ফল এবং সব্জিতে প্রচুর পরিমানে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ছোট পুষ্টিকণা থাকে। এগুলি খুব ছোট কিন্তু এগুলি আমাদের শরীরে শক্তি জোগায়।
  10. রোগব্যাধি এবং দুঃখ দূর করতে রান্না করার আগে খাবার ধুয়ে নিন। রান্না করার পর সেই খাবার দ্রুত খেয়ে নিন বা ঠিকমত তা সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করুন।

এই স্বাস্থ্য বার্তাগুলি বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এগুলো ওআরবি স্বাস্থ্য ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়: http://www.health-orb.org.

শিশুরা যাতে বিষয়টি আরো ভালোভাবে বুঝে এবং সেটি অন্যদের মাঝে প্রচার করতে পারে তার জন্য কিছু হাতে কলমে কাজের কথা উল্লেখ করা হল।

পুষ্টি: শিশুরা কি করতে পারে?

  • নিজের ভাষায় নিজস্ব শব্দ ব্যবহার করে নিজস্ব পুষ্টি বার্তা তৈরি করুন!
  • বার্তাগুলি মুখস্থ করি যাতে আমরা কখনো সেগুলি না ভুলতে পারি!
  • অন্যান্য শিশুদের এবং পরিবারের সদস্যদের বার্তাগুলি জানিয়ে দিন।
  • একটি বৃদ্ধি তালিকা খুঁজে নিয়ে সেটা মন দিয়ে দেখুন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্যে এবং অন্যান্য শিশুদের নিয়ে সমস্ত রেখাগুলির কি অর্থ তা বুঝতে চেষ্টা করুন। এটিকে কখনও কখনও স্বাস্থ্য লাভের পথ চার্ট বলা হয়ে থাকে এবং এটি আপনার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাওয়া যায়।
  • কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে সেখানে বাচ্চাদের ওজন কিভাবে মাপা হয় এবং তা এই বৃদ্ধি তালিকায় কিভাবে চিহ্নিতকরণ করা হয় সেটি লক্ষ্য করুন।
  • স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের কিভাবে ওজন ও উচ্চতা মাপা হচ্ছে তা লক্ষ্য করুন।
  • ওনাদের জিজ্ঞেস করুন যে ওনারা অপুষ্টিতে ভুগছে বা ভুগতে পারে এমন কোনো বাচ্চার কথা জানেন কি না আর জানলে সে বিষয়ে তাঁরা কিভাবে সাহায্য করছেন।
  • প্রতিদিন / প্রতি সপ্তাহে নিজের পরিবারের সদস্যরা কি খায় তা লিপিবদ্ধ করুন। প্রতি সপ্তাহে কতগুলো প্রাকৃতিক রং এর খাদ্য আমরা খেয়ে থাকি? আমাদের পরিবারে সবাই কি যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য পায় যা তাদের বৃদ্ধি, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ও কর্ক্ষমতা বজায় রাখে? আমরা কিভাবে তা জানব? সেখানে কি বিশেষ করে এমন কোন বৃদ্ধ ব্যক্তি বা শিশু আছেন যারা এত কম খাবার খাচ্ছেন যে সেটা আমাদের নজর দেওয়া উচিত?
  • কখন খাবার খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পরছে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন বা সে সংক্রান্ত ঘটনাগুলি শুনুন।
  • বাবা-মা, স্বাস্থ্যকর্মী বা অন্যদের জিজ্ঞেস করুন যে কোন শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে কি না সেটা তারা কিভাবে বোঝেন।
  • বিভিন্ন খাবার দেখানো আছে এমন একটি ছবির তালিকা তৈরী করুন, তাতে যে সমস্ত খাবার শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের পক্ষে খারাপ তা নির্দেশ করুন এবং কেন সেগুলি খারাপ তা তাদের পাশে লিপিবদ্ধ করুন।
  • ৬ মাস বয়সের পর প্রথম খাদ্য হিসেবে মায়েরা শিশুদের কি দিয়ে থাকেন সে বিষয়ে খোঁজ নিন। কত ঘন ঘন তারা তাদের শিশুদের খাইয়ে থাকেন? তারা উত্তরগুলি লিপিবদ্ধ করে পরে তাদের বন্ধুদের সাথে মিলে এমন একটি তালিকা তৈরী করতে পারে যাতে ফলাফলগুলি দেখা যায়।
  • ভিটামিন-সমৃদ্ধ কোন খাবারগুলি সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষের কাছে উপলব্ধ এবং সেই সমস্ত খাবার কিভাবে প্রস্তুত করা হয় (দোকানে এবং/অথবা বাড়ীতে) সে বিষয়ে খোঁজ নিন।
  • লক্ষ্য করুন কিভাবে খাদ্য প্রস্তুত করা হয়, কেমন করে থালা-বাসন ধোয়া ও শুকোনো হয় এবং খাদ্য প্রস্তুতের সময় যিনি রান্না করছেন তিনি তাঁর হাত ঠিকমত ধুয়ে নিচ্ছেন কি না।
  • এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন আমরা যা খেয়ে থাকি সেই সমস্ত খাদ্যের ছবি আঁকুন এবং/বা সেগুলির সম্বন্ধে লিখুন। আমরা ছবিতে রঙ ব্যবহার করতে পারি বা খাদ্যগুলিতে রঙের লেবেল দিতে পারি।
  • ৬ মাস বয়সের পর মায়েরা তাদের বাচ্চাদের প্রথম খাদ্য হিসেবে কি দিয়ে থাকেন সে বিষয়ে খোঁজ নিন ও লিপিবদ্ধ করুন এবং পরে তাদের বন্ধুদের সাথে মিলে একটি তালিকা তৈরী করুন যেখানে ফলাফলগুলি দেখতে পাওয়া যায়।
  • শিশুদের এবং ছোট বাচ্চাদের জন্য কোন খাবার ভাল ও কোন খাবার খারাপ এবং কেন সেটা জানুন। আমরা এই সকল খাদ্যের ছবি আঁকতে পারি এবং আমাদের লব্ধ ফলাফল দেখিয়ে একটি ছবির চার্ট তৈরি করতে পারি।
  • প্রশ্ন করুন একটি শিশু ঠিকমত বেড়ে উঠছে কি না সেটা বৃদ্ধি তালিকা থেকে কিভাবে জানা যাবে? খাবার কে আর্দ্রতামুক্ত রাখতে, খাবারকে বোতলে রাখতে এছাড়া অন্য উপায়ে খাবার তাজা রাখতে কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়? অকৃত্রিম, প্রাকৃতিক রঙের খাদ্য খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কেন? অসুস্থতা এবং তার পরবর্তী সময়ে কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিত?
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে স্তন্যপান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করুন এবং জেনে নিন কেন সেটা অবলম্বন করাই সব থেকে ভাল উপায়।
  • জিজ্ঞাসা করুন একটি অসুস্থ শিশুকে উপযুক্ত পরিমানে খাদ্য ও পানীয় দেবার জন্য আমরা কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
  • আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে/আমাদের বন্ধুদের মধ্যে কোন কোন মায়েরা তাদের সন্তানদের স্তন্যপান করান সে বিষয়ে খোঁজ নিন। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কি করে স্তন্যদুগ্ধ পরিবর্তিত হতে থাকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করুন। কেন শিশুর স্বাস্থ্যের পক্ষে দুধের বোতল বিপজ্জনক হতে পারে?
  • খাবার নষ্ট হয়ে গেছে এবং তা আর খাওয়া যাবে কি না সে বিষয়ে ছোট বাচ্চারা তাদের বড় ভাই বোনদের অথবা অন্য কারো কাছ থেকে জেনে নিতে পারে।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন www.childrenforhealth.org অথবা clare@childrenforhealth.org.

বাংলা Home